নেপালে ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহালের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে সরকার পতনের পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল, মাওবাদী সেন্টারসহ আটটি দল এক যৌথ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেলের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকির পরামর্শে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দেন। এটা মূলত সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি দাবি ছিল।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি নিহত হন। এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি ৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
আটটি রাজনৈতিক দল পার্লামেন্ট পুনর্বহালের পাশাপাশি আগামী বছরের ৫ই মার্চের জন্য ঘোষণা করা জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তবে তারা বলেন, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হওয়া উচিত।
প্রেসিডেন্ট পৌডেল সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান কার্যকর আছে এবং ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এখনো টিকে আছে।
কারকির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পার্লামেন্ট ও সরকারি ভবন পুনর্নির্মাণ, সহিংসতার বিচার এবং জনগণের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ। নেপালের বিভিন্ন অংশে কারফিউ ও নিষেধাজ্ঞা কিছুটা প্রত্যাহার করা হলেও কাঠমান্ডুর কিছু এলাকায় সমাবেশ এবং বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে।
নেপালের রাজনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অস্থিতিশীল সময় পার করছে, তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে ফিরছে দেশ।