Site Logo | রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ

দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে এনআইডি সংশোধনের অভিযোগ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে চলছে টাকার খেলা

ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর অফিস ঘিরে বাড়ছে অনিয়মের অভিযোগ

দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে এনআইডি সংশোধনের অভিযোগ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে চলছে টাকার খেলা

যার অফিস ঘিরে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ — আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ইউনুচ আলী। (

Advertisement

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় সেবাগ্রহীতারা দালালচক্র ও ঘুষের কারণে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।


অনেকের অভিযোগ—দালালের মাধ্যমে ঘুষ না দিলে কোনো আবেদনই সহজে অনুমোদিত হয় না। অথচ একই কাগজপত্র দিয়ে দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধন সম্পন্ন হয়ে যায়।

Advertisement



সরাসরি আবেদন রিজেক্ট, দালালের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন

ঢাকার এক ভুক্তভোগী (পরিচয় গোপন রাখা হলো) বলেন,

Advertisement

আমি আমার বয়স সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলাম ছয় মাস আগে। সব কাগজপত্র ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু আবেদনটি রিজেক্ট করে দেওয়া হয়। পরে একই কাগজপত্র নিয়ে এক দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে আমার এনআইডি সংশোধন হয়ে যায়।




একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মানিকগঞ্জের আব্দুল করিম নামে আরেক আবেদনকারী।

 তিন মাস আবেদন ঝুলিয়ে রাখার পর বলা হলো কাগজ ঠিক নেই। কিন্তু পরে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে দিলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সংশোধন হয়ে গেল।



Advertisement



টাকার খেলা’ চলছে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসেঃ

সেবাগ্রহীতারা জানিয়েছেন, যখন কোনো আবেদন যাচাইয়ের জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, ঢাকা-এ পৌঁছায়, তখনই শুরু হয় ‘টাকার খেলা’। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল বা স্থগিত করে দেন।


মানিকগঞ্জের সেলিনা বেগম নামের এক নারী বলেন,

আমি তিনবার আবেদন করেছি, তিনবারই বাতিল করেছে। পরে এক দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে আবেদন করলে মাত্র পাঁচ দিনে আমার বয়স সংশোধন সম্পন্ন হয়।



ভুক্তভোগীদের মতে, অফিসে দালালদের অবাধ আনাগোনা এখন স্বাভাবিক চিত্র। তাঁরা আবেদনকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ফাইল ‘দ্রুত অনুমোদন’ করিয়ে দেন।



প্রশ্ন তুললেই ‘কোনো মন্তব্য নেই’

এই অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, ঢাকা-এর এক কর্মকর্তা মোঃ ইউনুচ আলী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,

 আমরা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সঠিক মনে হলে তবেই অনুমোদন দেই।


তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট এনআইডির কথা উল্লেখ করে দালালদের মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কলটি কেটে দেন। পরবর্তীতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দাবিঃ

সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মতো মৌলিক সেবা পেতে গিয়ে দালালচক্র ও ঘুষের শিকার হওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাঁরা দাবি করেছেন—

সরকারের উচিত অবিলম্বে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, ঢাকা এবং সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা ও দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।


মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নাগরিক সেবার এই অবস্থা চলতে থাকলে জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে, যা রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও সুশাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
×